ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ খবরের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ৮৮ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৬ ডলার ৯২ সেন্টে। একই সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩৫ সেন্ট বা দশমিক ৪ শতাংশ কমে গতকাল প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৮৩ ডলার ১ সেন্টে। এর আগে গত সোমবার ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
আইইএর প্রস্তাবিত এ মজুদ ছাড়ার পরিমাণ ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ করে, তখন সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো মোট ১৮ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছেড়েছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের প্রস্তাবিত পরিমাণ আগেরবারের চেয়েও বেশি হবে।
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এ বিশাল পরিমাণ মজুদ বাজারে এলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সরবরাহ সংকটের প্রভাব অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার ইরানজুড়ে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পেন্টাগন জানিয়েছে, এটি ছিল যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চালানো সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন-স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এ প্রণালিতে ইরান কোনো মাইন স্থাপন করলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। প্রয়োজনে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে মার্কিন সেনাবাহিনী এসকর্ট বা পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে জাহাজ চলাচল শিল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি।
সংকট মোকাবেলায় জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলোর কর্মকর্তারা জরুরি ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। গতকাল অন্যান্য নেতার সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। তবে স্পার্টা কমোডিটিজের সিনিয়র বিশ্লেষক ফিলিপ জোনস-লাক্স আইইএর প্রস্তাব নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মজুদ ছাড়ার ঘোষণা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। এছাড়া কত দ্রুত এ মজুদ থেকে জ্বালানি তেল বাজারে আসবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে লোহিত সাগর হয়ে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বন্ধ হলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা এ রুটে পূরণ করা সম্ভব নয়। ড্রোন হামলায় আবুধাবির রুওয়াইস শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এনার্জি কনসালটেন্সি উড ম্যাকেঞ্জি সতর্ক করেছে যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছতে পারে। মরগান স্ট্যানলি এক নোটে জানিয়েছে, এ অস্থিরতা কাটাতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।